মেঘনার চরে শরতের শুভ্রতা, কাশফুল দেখতে মানুষের ভিড়
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সুমন মিয়া, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): নদীর পাড়জুড়ে বাতাসে দুলছে কাশফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, মেঘনার চরে সাদা চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। শরতের এই দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নে।

ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁওয়ের মাঝামাঝি মেঘনা নদীর চরে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২২০ একর এলাকাজুড়ে ফুটে আছে কাশফুল। নদীর জলরাশি, নীল আকাশ আর সাদা কাশফুল মিলে পুরো চরজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। বিকেল হলেই সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

কাশবনের ভেতর কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আপনজনদের নিয়ে ঘুরছেন। শিশুদের ছুটোছুটি, তরুণদের সেলফি আর প্রকৃতিপ্রেমীদের ক্যামেরাবন্দী করার ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠছে চর। অনেকেই নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন শরতের বিকেল।

এক যুগ পর হাওরে বুকে জমজমাট নৌকাবাইচ

দর্শনার্থী নুসরাত জাহান বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য সামনে থেকে দেখার অনুভূতি আলাদা। এখানে এসে শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে থাকা যায়। নদীর বাতাস আর কাশফুলের দোলা খুব ভালো লাগছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল আলম খোকন বলেন, শরৎ এলেই প্রতিবছর এই চরে কাশফুল ফুটে। ফুল ফোটার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন। এতে জায়গাটি কয়েক মাসের জন্য দর্শনার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা বলছেন, কাশবনের এই সৌন্দর্য অবশ্য বেশিদিন থাকে না। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে ঝরে পড়ে কাশফুল, বদলে যায় চরের চেহারাও। এরই মধ্যে নানা কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাশবন কমে যাচ্ছে। তাই মেঘনার এই বিস্তীর্ণ কাশবনটি রক্ষা করা গেলে প্রতিবছর শরতে প্রকৃতির এই শুভ্র সৌন্দর্য দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

কাশফুলে সাজা এই চর তখন হয়ে উঠতে পারে সোনারগাঁয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান।

—জা. অর্থনীতি/এনজে