নোয়াখালীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগে জামায়াত নেতা কারাগারে
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে যৌন নিপীড়নের (বলাৎকার) অভিযোগে মো. আলমগীর (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। একই সময়ে আদালতে খাসকামরায় ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ভুক্তভোগী শিশুকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেন বিচারক।

এর আগে গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. মনিরুল ইসলাম রতন বাদী হয়ে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে শরীফপুর ইউনিয়নের হাসানহাট বাজারের একটি ওষুধের দোকানে শিশুটিকে একলা পেয়ে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান আলমগীর। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে শিশুটি শারীরিকভাবে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করলে পরিবারের স্বজনেরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুর বাবা অবিলম্বে থানায় গিয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর একটি ভিডিও জবানবন্দি ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তবে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আবু জায়েদ। তিনি বলেন, "এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা। আলমগীর দুই দিন আগে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।"

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, শিশু নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নোয়াখালী আদালতের কোর্ট ইনস্পেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ বিচারক ভুক্তভোগী শিশুর ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে তার অভিভাবকের জিম্মায় দিয়েছেন এবং অভিযুক্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি