জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি: এক লাফে পেট্রোলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি করায় পরিবহন চালকদের মাঝে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খাতে ভাড়া, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে ব্যয় বৃদ্ধির শংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় তেলের সরবরাহ নিশ্চিতসহ রংপুরে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের মিজান ফিলিং স্টেশন, ইউনিক ফিলিং স্টেশন, সালেক ফিলিং স্টেশন, সিটি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, নতুন দামে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রাহকরা তেল নিতে এসে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অপরদিকে তেল বৃদ্ধির কারণে রংপুরের বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়ছে। 

বেশিরভাগ পাম্পে তেল নেই এবং কিছু পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে চলে যায় কর্তৃপক্ষ। এতে করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তেল নিতে আসা গ্রাহকরা। তারা পুরনো দামে কিনে নতুন দামে তেল বিক্রির কারসাজির বিষয়ে পাম্প মালিকদের শাস্তির দাবি জানান। 

আইফোন নাকি ধারের টাকা চাওয়াতে অপ্রতিমকে হত্যা

ভুক্তভোগীরা বলছেন, গণশুনানীর মাধ্যমে তেলের নতুন দাম নির্ধারণ হওয়া উচিত ছিল। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তেলের দাম সামঞ্জ্যপূর্ণ করতে চাইলে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার বিবেচনায় এনে তেলের দাম পুনঃনির্ধারণ করা প্রয়োজন।  

স্কুল শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে ২০০ টাকার তেল প্রয়োজন ছিল, এখন সেখানে ২৫০ টাকার তেল লাগবে। যাতায়াতের জন্য তেল তো লাগবেই। দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ৪০ টাকার বেশি তেল কিনতে হচ্ছে। যা মাসে গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার দুইশ টাকা, যা দিয়ে আমার বাচ্চার টিউশনীর বেতন দেয়া যেত। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি করলে জনগণ উপকৃত হতো।
    
ট্রাকচালক মফিজার রহমান বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি হলে প্রতিদিন কাস্টমারের সাথে আমাদের বাকবিতন্ডা লেগে যায়। তারা ন্যায্য ভাড়া দিতে চায় না। অনেক সময় ক্ষতি হলেও টিকে থাকার তাগিতে ট্রাক চালাতে হয়।

নষ্ট দুধ, তবু শিক্ষকরা বললেন—‘খেয়ে নাও, কিছু হবে না’

সিটি ফিলিং স্টেশনের স্বত্তাধিকারী হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত তেলের সংকট নেই। তবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহক হয়তো কিছুটা কমে যাবে। ফলে প্রতিদিন যে পরিমান তেল বিক্রি হতো, এখন আর সেটা হবে না। 

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর করে। এতে ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম লিটারে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে গতকাল রাতে রংপুরের পেট্রোল পাম্পগুলো মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন সারি লক্ষ্য করা যায়।

—জা.অর্থনীতি/এনজে