সাতক্ষীরার সেই চৌদ্দরশিতেই ফিরছে মরিয়মের মরদেহ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিল মরিয়ম খাতুনের পরিবার। সেই গ্রামের মাটিতেই এবার শেষবারের মতো ফিরছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকায় ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরিয়মের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছে। মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও গ্রামের মানুষ। পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দরশি গ্রামে দাফনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবার নিয়ে চৌদ্দরশি গ্রাম ছাড়েন। প্রথমে শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর এলাকায় এবং পরে যশোরের নওয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন তারা। প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে যান মাসুম বিল্লাহ। এরপর মগবাজার ও পল্লবী-কালশী এলাকায় বসবাস করে আসছিল পরিবারটি।

গ্রামের বাড়িতে এখন নেই মরিয়মের বাবা-মা। তবে মেয়ের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। 

মরিয়মের বড় কাকি মুন্নী আক্তার বলেন, মেয়েটি অনেক মেধাবী ছিল। জানি না এটা কেন ঘটেছে। মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি। ওর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

একই গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী মিনারুল ইসলাম বলেন, আমরা সঠিক বিচার চাই। সে যত বড় ক্ষমতাধর মানুষই হোক না কেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

গ্রামের বাসিন্দা ও মরিয়মের স্বজন ইয়াহিয়া বলেন, গতকাল রাত ৭টার দিকে জানতে পারি মরিয়ম নাকি আত্মহত্যা করেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা তো আমরা জানি না। এখন আমরা অপেক্ষা করছি। মরদেহ এলে দাফন করা হবে। তিনি জানান, মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ এর দাদা-দাদির পাশে তার দাফনের জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। 

আরেক বাসিন্দা মো. শাহাজান গাজী বলেন, মরদেহ আসতে রাত ১০টা বাজতে পারে। আমরা অপেক্ষা করছি। মরদেহ এলে দাফন করা হবে।

এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় বেলা সাড়ে ১১টায় শ্যামনগর শহরে মানববন্ধন করেন সচেতন নাগরিকরা। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় এমপির নামে বরাদ্দ করা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। 

মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। আর যে চৌদ্দরশি গ্রাম থেকে একদিন ঢাকার পথে পাড়ি জমিয়েছিল তার পরিবার, সেই গ্রামের মাটিতেই এবার শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে মরিয়মের।

—জা.অর্থনীতি/আরএস