নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবির মিডিয়া বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরজু রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার হওয়া আরজু রহমান ও তার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হাফিজুর রহমান বলেন, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই চক্রের প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগী এনএসআই-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তে দেখা যায়, পিয়াল মিয়া, কামরুন নাহার, ফাতেমা, রায়হানসহ একাধিক ব্যক্তিকে সার্বিয়া ও বেলারুশ হয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ভুয়া ভিসা-পাসপোর্ট দেখিয়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। তারা ভুক্তভোগীদের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিশর ও লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখাত।
আরজু রহমানকে গ্রেপ্তারের পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০-৩৫ জন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া এনএসআই-এর কাছে আরও প্রায় ৩০০ জন ভুক্তভোগীর তথ্য রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এই চক্রের শিকার হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি। ইউরোপে পাঠানোর নামে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ, এমনকি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো, যার মাধ্যমে শত কোটি টাকার জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার আরজু রহমান প্রায় ১২ বছর ধরে লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন এজেন্সির (যেমন- ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’, ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’) নাম ব্যবহার করে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তারা প্রত্যন্ত এলাকার বেকার যুবক ও নারীদের টার্গেট করত। ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নারীদের পাচার করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা, জিম্মি রাখা এবং অস্বীকৃতি জানালে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠে এসেছে।
লিবিয়া ও মিশরে অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের সমুদ্রপথে বোটে ইতালি যেতে চাপ দিত এবং অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি ও মুক্তিপণ দাবি করত। সমুদ্রপথে এভাবে অনেক ভুক্তভোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
গ্রেপ্তারকৃত আরজু রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলা রয়েছে। সে গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থাকত; তার কাছে মিশরীয় নাগরিকত্ব থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিপুল সংখ্যক ভূয়া ভিসা এবং অর্থ লেনদেনের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাওয়া গেছে।
আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
—জা.অর্থনীতি/আরএস