বিনোদন ডেস্ক: নব্বই দশকের ক্যাম্পাস প্রেমের সোনালী দিনগুলো কি ফিরছে রূপালি পর্দায়? আসছে দুর্গাপূজায় দর্শকদের জন্য তেমনই এক নস্টালজিক সিনেমা ‘চিরকুট’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন নির্মাতা মুনতাসীর আকিব। দর্শক এই ছবি দেখে জানতে পারবে নব্বই দশকের প্রেম কেমন ছিল! কেমন ছিল সেই সময়ের আবেগ-অনুভূতিগুলো।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রোমাঞ্চকর সত্য ঘটনাকে মূলত সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করে চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। সেন্সর বোর্ডের বাধা পেরিয়ে আনকাট ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকেই ঢাকাই সিনেমার বাজারে বইছে এক ভিন্ন আমেজ।
ঈদের পাশাপাশি এখন দুর্গাপূজাও বাংলা সিনেমা মুক্তির অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর এই পূজায় বড় পর্দায় দর্শক হৃদয় জয় করতে ১৬ অক্টোবর থেকে দেশের প্রধান সিনেপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরকুট’। গত বুধবার চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নির্মাতারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
পরিচালক জানান, মারপিট বা জটিলতার ভিড়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো এক নিখাদ প্রেমের গল্প নিয়ে আসছে এই ছবি। আমাদেরকে অতীতে ফিরিয়ে নেবে এই ছবি।
ছবিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা ও আজিনুন মীম। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে ছবির রোমান্টিক গান ‘প্রেমে গেলাম ডুবে’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রেহান রাসুল। স্ক্রিনে শ্যামল মাওলা ও আজিজুন মীমের প্রাণবন্ত রোমান্স গানটিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক উন্মাদনা। দর্শকদের অনেকেই বলছেন, নব্বই দশকের সেই স্নিগ্ধ প্রেম ও ক্যাফে-আড্ডার নস্টালজিয়া যেন গানটির প্রতিটি ফ্রেমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
গানটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিল্পী রেহান রাসুল বলেন, চিরকুটের এই রোমান্টিক মেলোডি শ্রোতাদের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটবে। অন্যদিকে গীতিকার পুলক অনিল জানিয়েছেন, বর্তমান প্রজন্মের শ্রোতাদের রুচির কথা মাথায় রেখে নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে এমন একটি গান লেখা চ্যালেঞ্জিং হলেও ফল দেখে তিনি নিজেও মুগ্ধ।
নির্মাতা মুনতাসীর আকিবের মতে, গল্পের গভীরতা এবং প্রতিটি গানের ভিন্নধর্মী উপস্থাপন দর্শকদের হলমুখী করতে বাধ্য করবে। ভালোবাসার অনুভূতিগুলো বড় অদ্ভুত; শত ব্যস্ততা কিংবা প্রযুক্তির ভিড়েও মানুষের মন আজও ওই সাদাকালো যুগের একটি চিরকুট, একটি খাম বা কোনো এক বিকেলের চায়ের পেয়ালায় ফিরে যেতে চায়। জীবন যতই আধুনিক হোক না কেন, প্রথম প্রেমের সেই কাঁচা অনুভূতি, ক্যাম্পাসের লাল ইটের পথ আর এক টুকরো আবেগের আবেদন চিরন্তন। হয়তো এই পূজায় ‘চিরকুট’ আমাদের ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু সময় কেড়ে নিয়ে ফিরিয়ে দেবে হারিয়ে যাওয়া সেই সোনালী দিনগুলোর সুবাস—যেখানে প্রিয় মানুষের নাম খোদাই করা থাকে হৃদয়ের সবচেয়ে গোপন পাতায়।
জা. অর্থনীতি/এআর