আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় নিজের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি এখানে। আপনাদের সঙ্গে।” আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে মাচাদোর এই আকস্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাচাদোর দেশে ফেরার খবরের পরপরই তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমান্ডো গনজালেস বিষয়টির সত্যতা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন। গনজালেস লেখেন, তাঁদের নেতা মারিয়া কোরিনা এখন ভেনেজুয়েলার মাটিতে রয়েছেন এবং আজকের দিনটি ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। তিনি আরও জানান, সার্বভৌম জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে দেশের মূল কণ্ঠস্বর ফিরে এসেছেন। দেশ যাতে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য খুব দ্রুত তিনিও দেশে ফিরে মাচাদোর সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের শেষভাগে নরওয়েতে গিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশ্যে গোপনে ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করার পর থেকেই কার্যত নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন মাচাদো। তাঁর এক সহযোগীর বরাতে জানা গেছে, এর আগে মাচাদো অন্তত সাতবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ভেনেজুয়েলার তৎকালীন সরকারি কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাধা দিয়ে দেশে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
মাচাদোর নোবেল নেওয়ার এক মাস পর, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তন ঘটে। সে সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে ফৌজদারি অপরাধের বিচারের জন্য নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই সাহসী পদক্ষেপের জন্য ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন মাচাদো। তবে ওয়াশিংটন পরবর্তী সময়ে মাচাদোর বদলে মাদুরোর সহকারী ডেলসি রদ্রিগেজকেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়।
জেএ/অভি