জেনে নিন মনোযোগ বাড়ানোর ১০টি কোরআনিক সূত্র
ছবি: সংগৃহীত

ছুটির দিনেও মাথার ভেতর ঘুরপাক খায় অফিসের ডেডলাইন, কিংবা রান্নার চুলোয় চড়ানো তরকারির চিন্তা। আর ঠিক এই চঞ্চল মনটা নিয়েই যখন আমরা জায়নামাজে দাঁড়াই, তখন মনোযোগটা যেন কর্পূরের মতো উড়ে যায়। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধার পর দুনিয়াদারির সব হিসাব-নিকাশ এসে ভর করে মাথায়। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে নামাজে এই একাগ্রতা বা ‘খুশু-খুযু’ ধরে রাখা আমাদের অনেকের জন্যই এক বিরাট যুদ্ধ। অথচ নামাজ কেবল কিছু শারীরিক নড়াচড়া নয়, এটি স্রষ্টার সাথে বান্দার সরাসরি কথোপকথন।

পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু আয়াত আমাদের এই চঞ্চল মনকে শান্ত করতে এবং নামাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে দারুণভাবে সাহায্য করে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন ১০টি আয়াত, যা আপনার নামাজে মান বদলে দিতে পারে:

১. মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনম্র। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১-২)। নামাজে দাঁড়ানোর আগে এই আয়াতটি মনে মনে স্মরণ করলে হৃদয়ে এক ধরণের সমর্পণ তৈরি হয়।

২. সংকট মুক্তির চাবিকাঠি হলো ধৈর্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই এটি কঠিন, তবে বিনীতদের জন্য নয়। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)। জীবনের কঠিন সময়ে অস্থির না হয়ে নামাজকে ঢাল বানানোর তাগিদ দেয় এই আয়াত।

৩. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার মাধ্যম। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।(সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)।  আমরা যখন জানব এই নামাজই আমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করবে, তখন নামাজের প্রতি মনোযোগ ও ভালোবাসা দুটোই বাড়বে।

৪. স্রষ্টার স্মরণে ডুবে যাওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো। (সুরা ত্বা-হা, আয়াত: ১৪)।  জায়নামাজে দাঁড়িয়ে কেবলই আল্লাহর কথা ভাবার এটিই সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

৫. সময়ের মূলায়ন করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,  নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)। সময়ের এই বাধ্যবাধকতা মানুষের মনে এক ধরণের মানসিক প্রস্তুতি ও একাগ্রতা এনে দেয়।

নামাজ হলো আত্মার খোরাক। দিনের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই কয়েকটা মিনিট যদি আমরা মনকে পুরোপুরি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারি, তবেই মিলবে পরম শান্তি।

৬. ব্যস্ততার মাঝেও যত্নবান হওয়া। তোমরা সকল নামাজ এবং মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি যত্নশীল থাকো...।(সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৮)। কাজের চরম ব্যস্ততার মাঝেও সব ভুলে বিনীতভাবে দাঁড়ানোই মুমিনের আসল পরীক্ষা।

৭. নামাজকে হেফজত রাখা।  আল্লোহ তায়ালা বলেন, এবং যারা তাদের নামাজসমূহের হেফাজত করে।(সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৯)।  সঠিক সময় ও যথাযথ নিয়ম মেনে পড়ার সংকল্প নামাজে অন্যমনস্কতা দূর করে।

৮. ধারাবাহিকতার শক্তি ভাল্ আল্লাহ তায়ালা বলেন,কিন্তু নামাজিরা নয়, যারা তাদের নামাজে নিয়মিত।(সুরা মা'আরিজ, আয়াত: ২২-২৩)। প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হলে নামাজে একাগ্রতা আনা সহজ হয়।

৯. সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ পাওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই কাছে সাহায্য চাই।(সুরা ফাতিহা, আয়াত: ৫)।  এই আয়াতের অর্থ উপলব্ধি করলে মনে হবে আপনি সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলছেন।

১০. অন্তরের আকুতি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তুমি তোমার রবকে মনে মনে বিনয় ও ভয়সহকারে স্মরণ করো।(সুরা আরাফ, আয়াত: ২০৫)। এই ভয় ও ভালোবাসা মিশ্রিত অনুভূতি নামাজের বাইরেও আধ্যাত্মিক সংযোগ ধরে রাখে।

আজ থেকেই নামাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে কোরআনের এই আলোকময় নির্দেশনাগুলো নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের নামাজকে কবুল করুন। আমিন।

জা.অর্থনীতি/ উমার