ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নবগঠিত রুহিয়া থানার ৬ নম্বর সেনুয়া ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙে গত প্রায় ৭ মাস ধরে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করলেও এটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে মলানখুড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে গেছে এই পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়ক। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। ওই সময় ঠিকাদারের ব্যবহৃত অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপে কালভার্টটি দেবে যায় এবং কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও এটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সড়কটিতে ছোট যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অটোরিকশা ও ভ্যান চালকসহ সাধারণ যাত্রীরা দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটিই বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কায়সার আলী মিন্টু ও আব্দুল জলিল জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। ভাঙা কালভার্টের কারণে ইতোমধ্যে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। কৃষক কুশল রায় ও গৃহবধূ তেরজিনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে পুলটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে ও ট্রাক্টর নিয়ে যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সদর ও রুহিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন জানান, অবকাঠামোটি কালভার্ট নয়, বরং একটি ইউড্রেন। ভারী লোড গাড়ি যাওয়ার কারণে স্লাবটি ভেঙে গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে এবং তিনি এটি মেরামত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
৬ নম্বর সেনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, "আমরা দ্রুতই কালভার্টটি সংস্কার করে সড়কটি পুনরায় যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তুলব।" এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন জরুরি ভিত্তিতে এটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি