চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন, উৎসবমুখর এফডিসি

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিএফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৬-২৮ মেয়াদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে চলছে গণনা। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমজমাট রূপ নিয়েছে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণ। 

ছুটির দিনে সাধারণত যে নীরবতা থাকে, তা ভেঙে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল থেকেই মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। তারকাদের আনাগোনা, প্রার্থীদের করমর্দন, আর সমর্থকদের ব্যস্ততায় পুরো এফডিসিতে এখন উৎসবের আমেজ। যেন ভোট নয়, দীর্ঘদিন পর চলচ্চিত্র পরিবারের এক মহা মিলনমেলা বসেছে এখানে। 

এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে, জুমার নামাজের সুবিধার্থে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি রাখা হয়। 

নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরু জানান, নামাজের বিরতির আগে প্রথম সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ১০২ জন শিল্পী তাঁদের ভোট দিয়েছেন। সেই হিসেবে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। 

ভোটকেন্দ্রের এই আনন্দঘন পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন অভিনেতা শম্ভু সরকার সঞ্জয়। তিনি এবার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী উপায়ে ব্যান্ড পার্টি ও পালকি নিয়ে ভোট দিতে হাজির হন। সোনালি রঙের পোশাক ও কাঁধে শাল জড়িয়ে পালকির শোভাযাত্রা নিয়ে তাঁর এই প্রবেশ উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে। 

শম্ভু সরকার জানান, শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই উৎসব, তাই প্রতিবারই তিনি ঘোড়া কিংবা সৈন্য নিয়ে আসেন, আর এবার এসেছেন পালকি চড়ে। 

এদিকে, সকাল পৌনে ১০টার দিকেই ভোট দিতে আসেন অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। পেশাগত কারণে শুক্রবার চেম্বারে রোগীর চাপ থাকায় সকাল সকাল ভোট দিয়ে কর্তব্যস্থলে ফিরে যান তিনি। ভোট দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেন কোনো বিভেদ ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ হয়। 

চলতি নির্বাচনে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার কম কাজ করা কিছু ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর জানান, চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ার কারণে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তেই সাময়িকভাবে ২টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ভিত্তিতে এই পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এফডিসিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ শেষে আজ রাতেই ভোট গণনা করা হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে রাতেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। 

নেতৃত্বের লড়াইয়ে যারা 
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে মূলত দুটি শক্তিশালী প্যানেল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফাইট ডিরেক্টর ও প্রযোজক মকবুল হোসেন আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি।

তাদের বিপরীতে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। এছাড়া কার্যনির্বাহী পরিষদের ১১টি সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রার্থী এই নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। 

কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদে লড়ছেন ২৭ জন
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আলীরাজ, আন্না (কামরুন্নাহার), আরমান খান, ইয়ামীন হক ববি, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন আক্তার, তাহমিনা হোসেন বেবী, দুলারী, নাসরিন, পলাশ খান, ফরহাদ, ফালগুনী রহমান জলি, বাদল শেখ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, মো. ফিরোজ মিয়া (ফিরোজ শাহী), রাকা, লতিফ (চিতা), শারমিন আক্তার, শাহীন কমেডি, শামীম খান (চিকন আলী), শিরিন শিলা, শিপন মিত্র, সুশান্ত, স্বপ্না কাশেম, হাসান জাহাঙ্গীর এবং হোসনে আরা রিয়া। 

উল্লেখ্য, গত মেয়াদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিশা সওদাগর এবং মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো পদেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে, নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ