স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার এই লড়াইয়ে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিতে পারেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ‘গোলমেশিন’ আর্লিং হলান্ড। তবে মাঠে নামার আগেই বিশাল এক মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পাচ্ছে ব্রাজিল; কারণ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ডাগআউটে আছেন চতুর রণকৌশলী কার্লো আনচেলত্তি, ক্লাব ফুটবলে যার হলান্ড জুজু কাটানোর মোক্ষম দাওয়াই ভালোই জানা আছে।
শনিবার (৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক মঞ্চে নরওয়ের এই ফরোয়ার্ডকে রুখে দিতে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে আনচেলত্তি ঠিক কী কৌশল আটছেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে জোর আলোচনা। এর আগে ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের উদাহরণ টেনে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছিল, আনচেলত্তির মূল মন্ত্র ছিল হলান্ডকে দল থেকে বিচ্ছিন্ন করা। সে ম্যাচে হলান্ডকে শারীরিকভাবে বোতলবন্দি করে রাখার প্রধান দায়িত্বে ছিলেন জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার, যাকে অনবরত সুরক্ষা দিয়ে গেছেন বাকি সতীর্থরা।
পরের মৌসুমেও রুডিগার-ফ্যাক্টর ও রক্ষণভাগের সম্মিলিত সুরক্ষা বলয় দিয়ে হলান্ডকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল আনচেলত্তির দল। তবে নরওয়েজিয়ান তারকাকে আটকে রাখা গেলেও ম্যানচেস্টার সিটি বার্নার্দো সিলভা, ফিল ফোডেন এবং জোসকো গভার্দিওলের গোলে ঠিকই অন্য পথ খুঁজে নিয়েছিল। হলান্ডকে নিয়ে রুডিগার পরবর্তীতে মন্তব্য করেছিলেন, "আমার মুখোমুখি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী স্ট্রাইকার সে। তবে ও মূলত সতীর্থদের পাসের ওপরই বেশি নির্ভরশীল।"
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের এক ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ দেখায়, আনচেলত্তি সেদিন আর্সেনালের ফর্মুলা মেনে ‘লো-ব্লক’ বা নিচে নেমে ঠাসা রক্ষণ সামলানোর কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। সেখানেও রুডিগারের কড়া পাহাড়ায় অধিকাংশ সময় নিষ্প্রভ ছিলেন হলান্ড। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও তার রক্ষণভাগের সম্মিলিত বোঝাপড়াকেই পুরো কৃতিত্ব দিয়েছিলেন।
অবশ্য স্প্যানিশ দৈনিক ‘এএস’-এর সূত্রমতে, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম সিটির শেষ দেখায় পাশার দান কিছুটা উল্টে গিয়েছিল। চোট ও পেনাল্টি মিলিয়ে হলান্ড সেবার জোড়া গোল করে বসলেও শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির দলই কোয়ালিফাই করে। হলান্ডকে রুখে দেওয়ার ব্যাপারে ইতালিয়ান এই মাস্টারের সুর সবসময় একই—‘ম্যান-মার্কিং’-এর চেয়ে দলগত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আগামীকাল ব্রাজিল ও নরওয়ের এই মহাদ্বৈরথেও আনচেলত্তির সেই বিখ্যাত ‘অ্যান্টি-হলান্ড’ ফুটবল দর্শনের ওপরই ভরসা রাখছে সেলেসাওরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি