কুবিতে স্নাতক শেষ হলেও ল্যাব ক্লাস পাননি ব্যবসা অনুষদের শিক্ষার্থীরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুবি প্রতিনিধি: ব্যবস্থাপন শিক্ষা, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, মার্কেটিং এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং—এই চারটি বিভাগ নিয়ে চলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। এসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতার জন্য ল্যাবে ৪৮টি কম্পিউটার থাকলেও স্নাতক শেষ হওয়া পর্যন্ত একটি ক্লাসও করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় এবং নির্দিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণকারী না থাকায় ল্যাবের দুই-তৃতীয়াংশ কম্পিউটারই এখন অকেজো, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ল্যাব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন— শাহাদাত তানভীর রাফি, মো. সিমান্ত মিয়া, রোম্মানা হোসেন এবং হোসাইন মুহাম্মদ। তাদের অভিযোগ, চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো ল্যাব ক্লাস করার সুযোগ পাননি। এমনকি ল্যাবভিত্তিক কোর্সগুলোও শুধু তাত্ত্বিকভাবে শেষ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। অনুষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ল্যাব ব্যবহারের কোনো আবেদনই ছিল না এবং ২০blank২৬ সালেও মার্কেটিং বিভাগের মাত্র একটি ক্লাস ছাড়া অন্য কোনো বিভাগ এই ল্যাব ব্যবহার করেনি।

এ বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দিয়েছেন, তারা হলেন— অধ্যাপক ড. মেহের নেগার, অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. জি. এম. আজমল আলী কাওসার, ডিন অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার, আইসিটি সেলের মো. মাসুদুল হাসান এবং প্রধান প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান।

বিভাগীয় প্রধানদের মতে, ল্যাবে নির্দিষ্ট টেকনিশিয়ান না থাকা এবং প্রজেক্টর সংকটের কারণে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সাবেক ডিন জানান, কম্পিউটারগুলো সচল রাখতে টেকনিশিয়ান নিয়োগের রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রতিটি কম্পিউটারের পেছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করিম বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং নষ্ট কম্পিউটারগুলো দ্রুত মেরামতসহ শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত ল্যাব ক্লাস করতে পারে, সে জন্য অনুষদের নতুন ডিনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেবেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি