আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুয়েত ও বাহরাইন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং হামলার সতর্কতায় সাইরেন বাজানো হয়। কাতারও অল্প সময়ের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করলেও পরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতে দুটি এবং বাহরাইনে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগের দিনও কুয়েত জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। সাম্প্রতিক এসব হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, মিশর ও ওমান কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। চীনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির নৌপরিবহনেও পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুত্র: আরব নিউজ
জা.অর্থনীতি/এসআই
