বোবা প্রাণীর অধিকারের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ডেস্ক: হঠাৎ আসা বানের পানি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনপদ। মানুষ যখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে, তখন গোয়ালে বাঁধা গবাদিপশু কিংবা খাঁচায় বন্দি পাখিটির কী উপায় হবে? দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছি, যা অত্যন্ত আশাজাগানিয়া। কিন্তু বাঁচার অধিকার তো এই অবলা প্রাণীদেরও আছে! ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, বিপদের দিনে কেবল মানুষের নয়, পশু-পাখির প্রতিও সদয় হতে হবে।

পশু-পাখির অধিকার রক্ষায় ইসলামের রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। পবিত্র কোরআনে প্রাণিকুলকে আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে বিচরণশীল সব প্রাণী এবং উড়ন্ত পাখি মানুষের মতোই একেকটি জাতি (সুরা আনআম: ৩৮)। কোরআনে গাভি, মৌমাছি, পিঁপড়া, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণীর নামে আলাদা সুরার নামকরণই প্রমাণ করে ইসলামে এদের কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইসলামে পশু-পাখির প্রতি নম্রতা দেখানো ইবাদতের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, এক পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে এক নারীর অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছিল (সহিহ বোখারি)। এর বিপরীতে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখে অভুক্ত মেরে ফেলার কারণে এক নারীকে জাহান্নামে যাওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়া ইসলামে জঘন্য অপরাধ।

পশু-পাখিকে খাঁচায় বা গোয়ালে রাখলে দুর্যোগের সময় তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া এবং পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব।

বন্যার পর গবাদিপশুর মধ্যে যেন রোগব্যাধি না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে বলেছেন (সহিহ বোখারি)।

বোবা প্রাণীদের অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া বা অনাহারে রাখা যাবে না। তাদের দিয়ে কোনো কাজ করালে বা আরোহণ করলেও সদয় থাকতে হবে।

প্রকৃতি ও পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় পশু-পাখির বিকল্প নেই। আসুন, দুর্যোগের এই ভয়াবহ দিনে আমরা কেবল নিজেদের নিয়েই না ভাবি। অবলা পশু-পাখির অধিকার আদায়ে যত্নবান হই এবং সাধ্যমতো তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করি। মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলের প্রতি এই ভালোবাসা আমাদের জন্য আখেরাতে নাজাতের উসিলা হতে পারে।

জা.অর্থনীতি/ উমার