র‍্যাগিং নাকি নির্যাতন: ইবিতে ম্যানারের নামে কী শেখানো হচ্ছে?
ছবি সংগৃহীত

ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয় পর্ব’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শতবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, মুখে পুকুরের ময়লা পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে রাখা এবং গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে এসব ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতার কারণে মুখ খুলতে না পারলেও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ক্লাস শেষে কক্ষে বসিয়ে রেখে ও রাতে 'জিয়া মোড়ে' ডেকে ল্যাম্পপোস্ট গণনা করা, ক্লাসের সব ছাত্রীকে দিয়ে হলের সামনে সেলফি তোলানো ও নাচতে বাধ্য করার মতো হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি শহরের শ্রীরামপুরে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং অন্যকে অশালীন বাক্য বলতে বাধ্য করা হয়েছে। এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক হুমকি দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আল-ফিকহ ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগেও নবীনদের গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রেখে জোরপূর্বক ধূমপান করানো ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ঘটনা চেপে যেতে ও লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করতে অভিযুক্তদের পক্ষে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় চেনানো ও শৃঙ্খলা শেখানোর উদ্দেশ্যেই কড়া ভাষায় কথা বলা এবং বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছিল।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তদন্ত পরিচালনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে চলছি। ট্যুরিজম বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীদের ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।"

ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম স্পষ্ট জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ম্যানার' বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "র‍্যাগিং ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্টরকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি