সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসা-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতিরিক্ত গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। অব্যাহত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রতিবাদে রোববার রাতে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।
নগরীর তালতলা এলাকার ব্যবসায়ী সুহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, "এমনিতেই ব্যবসা মন্দা, তার ওপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালিয়ে দোকান চালাতে গিয়ে খরচের চাপ সামলানো দায় হয়ে পড়েছে।" ভার্থখলা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা জরুরি ওষুধপত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম জানান, দিন-রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গভীর রাতেও মিলছে না স্বস্তি।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিলেটে ২৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২০২ মেগাওয়াট, অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট। এর আগের দিন রোববার ২৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
