কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলে বর্ধিত চাষাবাদ ও কৃষকদের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও আরও অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুই দফায় এ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের গড় বরাদ্দের তুলনায় এটিই এ পর্যন্ত জেলায় সর্বোচ্চ ইউরিয়া বরাদ্দ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন সার বরাদ্দের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডিষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) থেকে ৫০০ টন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে আরও ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশেষ এ বরাদ্দের ফলে সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় মোট ইউরিয়া বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৪ টন। যেখানে গত পাঁচ বছরে এই সেপ্টেম্বর মাসে গড় বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫৫ টন।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসে কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, "অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দের পাশাপাশি আগামী অক্টোবর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের ৩ হাজার ৬৩৯ টন সার আগাম উত্তোলনের অনুমতি মিলছে। ফলে রবি মৌসুমে সারের কোনো সংকট হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাভাবিক সময়ে রোপণ করা আমন ধানের জমিতে বর্তমানে ইউরিয়া বা ডিএপি প্রয়োগের আবশ্যিক প্রয়োজন নেই, অতিরিক্ত সার ব্যবহারে কেবল অপচয়ই হবে।
তবে সরকারি পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় সার বিতরণে চরম বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, অবৈধ মজুত ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ কৃষকেরা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, বিসিআইসি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি চক্রের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরির খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রশাসনের বিভিন্ন তদারকি অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত সার উদ্ধারের ঘটনা এ অভিযোগের সত্যতা আরও স্পষ্ট করেছে।
কৃষক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, কেবল কাগজ-কলমে বরাদ্দ বাড়ালেই কৃষকের ভোগান্তি কমবে না, সার বিতরণ ব্যবস্থাতেও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও যেসকল উপজেলায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দোষী ডিলার ও অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভূক্তভোগী চাষিরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি