খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বৈধ অনুমোদন ছাড়া চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা এবং ভুয়া চিকিৎসক ও হাসপাতাল পরিচালক পরিচয় দেওয়ার অপরাধে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাটনাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকার কোতোয়ালি থানার শাহাজাদা মিয়া লেনের অনুপ কুমার বিশ্বাস (ক্যাম্পেইন পরিচালক), পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মো. মানিক হাওলাদার (ডিপ্লোমা চিকিৎসক), ঢাকার কেরানীগঞ্জের মো. আরিফ হোসেন, মো. জাহিদ হোসেন এবং চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকার আবদুল কাইয়ুম রিফাত।
আদালতের রায়ে অনুপ কুমার বিশ্বাস ও মো. মানিক হাওলাদারকে ৪০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অপর তিন সহযোগী মো. আরিফ হোসেন, মো. জাহিদ হোসেন ও আবদুল কাইয়ুম রিফাতকে ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চক্রটি একটি কথিত হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসক সেজে মানিকছড়ির ছদুরখীল ও বাটনাতলী এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করে। সেখানে চিকিৎসা প্রদানের নামে চশমা ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালালে অভিযুক্তরা চিকিৎসা প্রদান বা ক্যাম্প পরিচালনার স্বপক্ষে কোনো বৈধ অনুমতিপত্র ও মেডিকেল সনদ দেখাতে ব্যর্থ হন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুযায়ী ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া ও অনুমোদনহীন ক্যাম্প পরিচালনার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও প্রতারণা রোধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি