অনলাইন ডেস্ক: গ্যাস সরবরাহ ফিরেছে সংকট শুরুর আগের পর্যায়ে। কিন্তু, ঢাকার শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি কি ফিরেছে?
কোথাও গ্যাসের চাপ কম, কোথাও উৎপাদন ব্যাহত। তাহলে, জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ বাড়লেও গ্রাহকের ভোগান্তি কেন কাটছে না? সংকট কি সত্যিই শেষ, নাকি হিসাবের আড়ালে রয়ে গেছে বড় ঘাটতি?
সংকটের শুরু ও প্রভাব
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার পর কমে যায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শিল্পকারখানায়। তিতাসের আওতাধীন ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দেখা দেয় তীব্র সংকট। বাসাবাড়িতে রান্নার ভোগান্তি, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন আর কারখানায় কম চাপের কারণে ব্যাহত হয় উৎপাদন।
সরবরাহ কি ফিরেছে?
তবে পরিস্থিতিতে, এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬শ ১০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১ হাজার ৬শ ২০ এবং এলএনজি থেকে আসে প্রায় ৯শ ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের আগে সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬শ থেকে ২ হাজার ৬শ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। অর্থাৎ মোট সরবরাহের হিসাবে পরিস্থিতি ফিরেছে আগের পর্যায়ে।
কিন্তু, এখানেই রয়েছে মূল প্রশ্ন।
পরিমাণ আছে, চাপ কোথায়?
গ্যাসের পরিমাণ বাড়লেও সব এলাকায় কি স্বাভাবিক চাপ ফিরেছে? শিল্প উদ্যোক্তাদের তথ্য বলছে, চট্টগ্রামে সরবরাহের উন্নতি হলেও ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীর অনেক কারখানায় এখনো কম চাপের অভিযোগ রয়েছে। কিছু কারখানায় ১০ থেকে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ২ থেকে ৩ পিএসআই পর্যন্ত। এতে করে গ্যাস সরবরাহ ফিরলেও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সমস্যায় পড়ছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
এর সঙ্গে রয়েছে চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৬শ থেকে ২ হাজার ৭শ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। তাই, আগের সরবরাহ ফিরলেও বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন হবে আরও গ্যাস।
গ্যাস সরবরাহ আগের পর্যায়ে ফিরেছে, কিন্তু সংকট পুরোপুরি কাটল কিনা, তা নির্ভর করছে গ্রাহকের কাছে কতটা চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পৌঁছাচ্ছে তার ওপর। জাতীয় হিসাবের স্বস্তি কি এবার পৌঁছাবে শিল্পের মেশিন আর বাসাবাড়ির চুলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি