জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: এয়ারপোর্টের পর এবার কী রেলওয়েতে আসতে যাচ্ছে নতুন ‘ফাটাকেষ্ট’। টিকিট কালোবাজারিসহ রেলওয়ে খাতের অনিয়ম বন্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক মাসের জন্য পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কাজের স্বাধীনতা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।
বহু সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীদের প্রধান ভোগান্তি টিকিট কালোবাজারি। সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বা অনলাইনে চেষ্টা করেও টিকিট পান না, অথচ চড়া দামে সেই টিকিটই চলে যায় কালোবাজারিদের কব্জায়। টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো মারাত্মক অপরাধ, যা প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে নিরীহ যাত্রীদের জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তা। পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অকার্যকারিতা এবং তদারকির অভাবে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে পুরো খাতে।
এই দীর্ঘদিনের জট কাটাতে এক অভিনব চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মাহবুব কবীর মিলন। কোনো পদ-পদবি, আলাদা সুযোগ-সুবিধা বা পারিশ্রমিক ছাড়াই শুধু যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি দেওয়ার বিনিময়ে এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে মাহবুব কবীর মিলন লেখেন, ‘আমাকে ক্ষমতা দিন মাত্র এক মাসের জন্য। এই এক মাসে ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলের টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেখাব ইনশাআল্লাহ। পদ, পদবি, আলাদা চেয়ার-টেবিল কিছুই লাগবে না। বিনা পয়সায় সার্ভিস দেব। শুধু যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ি দেবেন।’
কাজের শর্ত হিসেবে তিনি চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। সততার সঙ্গে কাজ করতে অবসরপ্রাপ্ত কিছু অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও টিকিট এক্সামিনার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন, যারা বিনা বেতনে সেবা দেবেন। যাত্রী হয়রানি না করে দৈবচয়ন ভিত্তিতে পরিচয়পত্র যাচাই, অনিয়ম পেলেই দ্বিগুণ জরিমানা এবং ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তার। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে টিকিট পরীক্ষকদের গায়ে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের কথা বলেছেন তিনি। এমনকি অনিয়মের পক্ষে কোনো তদবির হলে তাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
ব্যর্থ হলে যে কোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মাহবুব কবীর মিলন লেখেন, ‘এক মাসের ঝুঁকি নেবেন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ব্যর্থতায় যে কোনো শাস্তি মেনে নেব। কিন্তু এই এক মাস সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিতে হবে আমাকে। সব কাজের অগ্রগতি জনগণকে সরাসরি জানানো হবে। মাঝখানে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না- শুধু আপনি আর আমি।’
—জা. অর্থনীতি/এলএটি