হার্ট অ্যাটাক নাকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, পার্থক্য কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় অর্থনীতি স্বাস্থ্য ডেস্ক: হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-দুটিই হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা। তবে একটির সঙ্গে অন্যটির পার্থক্য রয়েছে। হার্ট অ্যাটাক হলে হৃদযন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদযন্ত্র হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। দুটি অবস্থাই প্রাণঘাতী হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা পেলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

সম্প্রতি ৭৫ বছর বয়সে অভিনেতা নানা পটেকরের মৃত্যুর পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। ৮ অক্টোবর ২০২৬ গোয়ায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হৃদযন্ত্রের এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছিল, তা আলাদা বিষয়। কিন্তু বলিউড তারকার এমন মৃত্যু হৃদযন্ত্রের কিছু বিষয়ে জানাশোনার দাবি তৈরি করে তো বটেই। 

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কী?

হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতের ব্যবস্থায় গোলযোগ হলে হৃৎস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদযন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হয়। মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়তে পারেন।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ অচেতন হয়ে যাওয়া, ডাকাডাকি বা স্পর্শে সাড়া না দেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেওয়া। কখনো আক্রান্ত ব্যক্তি শুধু হাঁপানোর মতো শ্বাস নিতে পারেন, যা স্বাভাবিক শ্বাস নয়। এ অবস্থায় প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা ডাকা, সিপিআর শুরু করা এবং সম্ভব হলে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহার করা প্রয়োজন।

হার্ট অ্যাটাক হলে কী ঘটে?

হৃদযন্ত্রের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। সাধারণত ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে তৈরি হওয়া প্লাক ফেটে রক্ত জমাট বাঁধলে এ সমস্যা দেখা দেয়। রক্ত ও অক্সিজেনের অভাবে হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বুকের মাঝখানে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি, হাত, পিঠ, ঘাড় কিংবা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব এবং মাথা ঘোরা। তবে সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে ব্যথা কমে যাওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। হার্ট অ্যাটাকের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টও হতে পারে।

জীবন বাঁচাতে কী করবেন?

কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে দেখুন তিনি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না। সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিক শ্বাস না থাকলে দ্রুত জরুরি সেবায় ফোন করুন। বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়। প্রশিক্ষণ থাকলে বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিয়ে সিপিআর শুরু করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার বুক চাপ দিতে হয়। কাছাকাছি এইডি থাকলে সেটির নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। বুকে অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ঘাম বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।