ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের ১২ বছরের কারাদণ্ড দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর মামলায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পর অবশেষে আইনের মুখোমুখি হয়েছেন তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসাকর্মীরা। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে তিগ্রেতে নিজ বাসায় হৃদরোগ ও ফুসফুসে তরল জমে মারা যান ফুটবলের এই বরপুত্র। 

তার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও পেশাগত দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে গত এপ্রিল থেকে সাতজন চিকিৎসাকর্মীর বিচার চলছে। বৃহস্পতিবার আদালতের চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ড লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছর এবং বাকি আসামিদের জন্য ৪ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবিগণ আদালতকে জানান, আসামিদের ‘বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ অসুস্থ রোগীকে সম্পূর্ণ সহায়হীন অবস্থায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে চিকিৎসকেরা যেসব বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল তা পুরোপুরি বর্জন করেছিলেন। এমনকি যে বাড়িতে তাকে রাখা হয়েছিল সেখানে ন্যূনতম চিকিৎসাসামগ্রী, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের বিছানা কিংবা হৃদ্‌স্পন্দন ফেরানোর ডিফিব্রিলেটরের মতো জরুরি জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রের অস্তিত্বও ছিল না।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মকে থোড়াই কেয়ার করে অবহেলার মাধ্যমে ম্যারাডোনার মতো বিশ্বমানের অ্যাথলেটকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা।

যদিও আসামি পক্ষের চিকিৎসকেরা দাবি করেছেন যে ম্যারাডোনার মৃত্যু অপ্রত্যাশিত ছিল এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব সাধ্যমতো পালন করেছিলেন। আদালতের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনাও। 

জা. অর্থনীতি/এআর