জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: মাথা ঝিমঝিম করছে, মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না? ঘুমের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত কাজের চাপের পাশাপাশি এর পেছনে কি থাকতে পারে পানিশূন্যতাও? মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সঙ্গে পানির সম্পর্ক নিয়ে কী বলছে গবেষণা? আর সুস্থ থাকতে প্রতিদিন আসলে কতটা পানি পান করা প্রয়োজন?
পানি শুধু শরীরের তৃষ্ণা মেটায় না, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদান, কোষে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছানোসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পানির ভূমিকা রয়েছে। আর শরীরে পানির ঘাটতি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে মনোযোগ ও চিন্তাশক্তিতেও। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পানিশূন্যতার কারণে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা সবসময় সরাসরি কমে না গেলেও একই কাজ করতে মস্তিষ্ককে বেশি পরিশ্রম করতে হতে পারে। বিশেষ করে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান ও নির্বাহী কার্যক্ষমতার মতো কাজে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
২০১৮ সালে ৩৩টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শরীরের ওজনের ২ শতাংশের বেশি পানি কমে গেলে কিছু জ্ঞানগত সক্ষমতায় সামান্য হলেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ১ দশমিক ৪ কেজি ওজন কমার সমান।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলে যাওয়ার সময় অনেক শিশুই পানিশূন্য অবস্থায় থাকে। দিনের শেষে এই হার আরও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে মেজাজ ও স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সম্পর্কও পাওয়া গেছে। তবে, প্রশ্ন হলো প্রতিদিন কতটা পানি প্রয়োজন? প্রচলিত ‘আট গ্লাস’ বা ‘দুই লিটার’ নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বয়স, শরীরের গঠন, আবহাওয়া, ব্যায়াম ও খাবারের ওপর পানির প্রয়োজন নির্ভর করে। কারণ, শরীর খাবার থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পায়।
তাই মস্তিষ্ক সচল রাখতে অতিরিক্ত পানি পান নয়, বরং নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি পান করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, গরমে বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমের সময় পানিশূন্যতা এড়ানো জরুরি।
পানি কম খেলেই কি মস্তিষ্ক ধীর হয়?
মাথা ঝিমঝিম করছে, মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না? ঘুমের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত কাজের চাপের পাশাপাশি এর পেছনে কি থাকতে পারে পানিশূন্যতাও? মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সঙ্গে পানির সম্পর্ক নিয়ে কী বলছে গবেষণা? আর সুস্থ থাকতে প্রতিদিন আসলে কতটা পানি পান করা প্রয়োজন?
মস্তিষ্কের জন্য কতটা পানি যথেষ্ট?
পানি কম খেলে শুধু তৃষ্ণাই নয়, প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কের কাজেও। গবেষণায় দেখা গেছে, পানিশূন্যতা মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের মতো কাজে মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। শরীরের ওজনের প্রায় ২ শতাংশ পানি কমে গেলেও কিছু জ্ঞানগত সক্ষমতা কমতে পারে। তবে, সবার জন্য প্রতিদিন দুই লিটার বা আট গ্লাস পানি-এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। বয়স, আবহাওয়া, ব্যায়াম ও খাবারের ওপর প্রয়োজন বদলায়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি