সাইদুর রহমান, চট্টগ্রাম: সেদিন ক্লাসে যাওয়ার কথা ছিল মোহাম্মদ শামসুদ্দিনের। কিন্তু ২০১১ সালের ১০ জুলাই স্কুলে যেতে পারেনি সে। পরদিন ১১ জুলাই, সহপাঠীরা একে একে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছিল বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখতে। শামসুদ্দিন তখনও কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বসে ছিল। পরে প্রধান শিক্ষক বাধ্য হয়ে ক্লাসের ছুটি দিয়ে দেন। খেলা দেখতে যাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে আর যাওয়া হয়নি তার।
স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ভাত খেতে বসেছিল শামসুদ্দিন। ঠিক তখনই খবর আসে— খেলা দেখে ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী ট্রাক উল্টে ডোবায় পড়ে গেছে। হতাহতের খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিকাল গড়াতেই একে একে লাশ আসতে থাকে প্রিয় বিদ্যালয়ের আঙিনায়। যে বন্ধুরা সকালে হাসতে হাসতে স্কুল ছেড়েছিল, তাদেরই নিথর দেহ ফিরল সেখানে। জীবনের জন্য নয়, যেন চিরদিনের মতো স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে।
আজ শামসুদ্দিন সোনালী ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ করেছেন। জীবনের পথে এগিয়েছেন। কিন্তু শৈশবের সেই দিনের স্মৃতি তাকে আজও তাড়া করে ফেরে। তার সহপাঠী ধ্রুব, কাজল, আমিন শরীফ, জুয়েল বড়ুয়া, আল মোবারক, সাকিব, লিটন— কত নাম! শামসুদ্দিনের ভাষায়, তারা বেঁচে থাকলে কেউ হয়তো বড় চিকিৎসক, আইনজীবী কিংবা তার মতো চাকরিজীবী হতো। কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ থেমে গেছে সেই দুর্ঘটনায়। স্মৃতিতে তারা রয়ে গেছে চির অমলিন।
একটি দুর্ঘটনা, ৪৫টি প্রাণহানি, অসংখ্য স্বপ্নের মৃত্যু। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ২০১১ সালের ১১ জুলাই ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক ঘটনা দেড় দশক পরও ‘মীরসরাই ট্র্যাজেডি’ নামেই মানুষের মনে ফিরে আসে। ক্যালেন্ডারে দিনটি প্রতিবছর ফিরে আসে, কিন্তু মায়ানী, মঘাদিয়া ও আবুতোরাব এলাকার বহু পরিবারের কাছে এটি নিছক একটি তারিখ নয়— সন্তান হারানোর দগদগে ক্ষত, বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না আর অপূর্ণ জীবনের দীর্ঘশ্বাস। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২২ অক্টোবর পালিত হলেও মীরসরাইয়ের সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত আজও শুকায়নি। দেড় দশক পেরিয়েও স্বজন হারানো পরিবারগুলোর হাহাকার আর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার আক্ষেপ ভারী করে রেখেছে আবুতোরাবের আকাশ-বাতাস।
যে দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পুরো দেশ
১১ জুলাই ২০১১ সালে মিরসরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে শিক্ষার্থীরা একটি মিনি ট্রাকে বা পিকআপে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছিল। ফেরার পথে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকার রাস্তার পাশের একটি ডোবায় চালকের বেপরোয়া গতি ও মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে গাড়িটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর দমবন্ধ পরিস্থিতিতে ৪২ থেকে ৪৩ জন ছাত্রসহ মোট ৪৫টি তাজা প্রাণ ডোবার জলে তলিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর স্বাধীন বাংলাদেশে এক দুর্ঘটনায় এত শিশুর মৃত্যুর এমন নজির আর নেই।
নিহতদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার দুজন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের দুজন শিক্ষার্থী ছাড়াও একজন অভিভাবক ও দুজন ফুটবলপ্রেমী যুবক ছিলেন।
সেদিন শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল পুরো জনপদ। মায়ানী, মঘাদিয়া, আবুতোরাবসহ আশপাশের ১১টি গ্রামের মায়েদের বুক খালি হয়েছিল, সবক’টি গ্রাম পরিণত হয়েছিল শোকের জনপদে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার আগে চালকের মুঠোফোনে কথা বলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে যে কারণেই হোক, একটি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো যে কতগুলো পরিবারের জীবন ওলট-পালট করে দিতে পারে, মীরসরাইয়ের সেই ঘটনা তার নির্মম দৃষ্টান্ত।
থামেনি মা-বাবার কান্না, থমকে গেছে জীবন
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে হারিয়ে তার মা নাজমা আক্তার আজও পাগলপ্রায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমার সব স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়ে গেছে। বেঁচে থাকলে আমার ছেলে আজ টগবগে তরুণ থাকত। কিন্তু ছেলেটার বয়স তো আর বাড়ল না। যে ছেলে আমার অবলম্বন হতো, তার স্মৃতি হাতড়ে এখন দিন কাটে আমার। এ দুঃখ থেকে আমার আর মুক্তি নেই এ জীবনে।’
নিহত আল মোবারক জুলহাসের বাবা হুমায়ুন কবিরের জীবনেও থেমে আছে ওই দিনে। মীরসরাইয়ের একটি ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি। মাসিক আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। দুই ছেলের মধ্যে জুলহাস ছিল বড়। সে বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো প্রায় ২৮ বছর। খেলাধুলা ভালোবাসত, এলাকার মানুষের কাছেও ছিল প্রিয়।
সন্তানের মৃত্যুর কথা উঠতেই হুমায়ুন কবিরের কষ্ট ফিরে আসে। দুর্ঘটনার কথা ভাবলে কিংবা সেই রাস্তা দিয়ে গেলে তার মাথা ঘোরে, বুক ফেটে আসে কান্না। তাই সব কথা খুলে বলাও তার পক্ষে কঠিন।
একদিকে সন্তানের শূন্যতা, অন্যদিকে বৃদ্ধ বয়সে সীমিত আয়ে সংসার চালানোর চাপ। তার স্ত্রীও অসুস্থ। ছোট ছেলে নিজামপুর কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে পড়ছে। সেই ছেলের পড়াশোনা শেষ হলে একটি চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক— এটাই এখন তার আকুতি। যে বড় ছেলে একদিন পরিবারের দায়িত্ব নিত, তার জায়গায় আজ শুধু শূন্যতা।
অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি
দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা তৎকালীন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ সোহরাব হোসাইন জানান সেই ভয়াল দিনের কথা। জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ট্রাকে গাদাগাদি করে ওঠার পর কখন যে গাড়ি উল্টে পানিতে পড়েছে তা তারা টেরই পাননি। ঘুটঘুটে অন্ধকার আর দমবন্ধ পরিবেশে বাঁচার জন্য সবাই হাত-পা ছুঁড়ছিল। কোনোমতে পানি থেকে ফেনা ও কাঠামো ধরে উপরে ভেসে উঠে বাঁচলেও তার পাঁচ থেকে ছয়জন ঘনিষ্ঠ সহপাঠী মারা যায়। সহপাঠীদের জানাজায় অংশ নেওয়ার পর অতিরিক্ত শোক ও শারীরিক ধকলের কারণে তার মাথা ফুলে যায়, বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং হাসপাতালে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। পরবর্তীকালে চরম পারিবারিক দারিদ্র্য ও বাবার মৃত্যুর পর আর পড়াশোনা চালাতে না পেরে জীবিকার তাগিদে তাকে শহরে পাড়ি জমাতে হয়।
ছবির ফ্রেমে আটকে আছে রায়হান
দুর্ঘটনায় নিহত রায়হান উদ্দিনের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সে সময় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল রায়হান। বড় ভাই জিয়াদুল ইসলামের স্মৃতিতে ছোট ভাইটি ছিল ভীষণ ভালো, জানার আগ্রহে ভরপুর। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও ছিল তার প্রবল ঝোঁক।
রায়হানকে নিয়ে পরিবারের কত স্বপ্ন ছিল! বয়স বাড়ত, পড়াশোনা শেষ করত, নিজের পায়ে দাঁড়াত। পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকত। কিন্তু সেই স্বপ্নের কোনোটি পূরণ হয়নি। দুর্ঘটনার দিন স্কুলে সাইকেল নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার। পরে পরিস্থিতির কারণে সাইকেলটি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ছোট্ট একটি স্মৃতি, অথচ তার ভেতরেই যেন আটকে আছে হারিয়ে যাওয়া একটি শৈশব।
রায়হানের বড় ভাই জিয়াদুল ইসলাম এখন বাজারে কাপড়ের দোকান চালান। ভাইকে হারানোর স্মৃতি নিয়ে দিন কাটে তার। যে ছেলেটি একদিন পরিবারের অবলম্বন হতে পারত, সে আজ শুধুই স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বয়স বেড়েছে, বদলেছে জীবনযাত্রা। শুধু রায়হানের বয়স আর বাড়েনি।
স্মৃতিস্তম্ভে লেখা ‘আবেগ’, বুকে জমে ‘অন্তিম’
নিহতদের স্মরণে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে ‘আবেগ’ নামের স্মৃতিস্তম্ভ। দুর্ঘটনাস্থলের পাশে রয়েছে ‘অন্তিম’। স্মৃতিস্তম্ভ দুটি যেন হারিয়ে যাওয়া শিশুদের স্মৃতি বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে গেলে মনে পড়ে সেই দিনের কথা— যে শিশুরা ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, তারা ফিরেছিল নিথর দেহ হয়ে।
‘আবেগ’ স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাতা নিজাম মিস্ত্রিও ওই দুর্ঘটনায় নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন। তার কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি সন্তানের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। তার বিশ্বাস, সন্তান চলে গেলেও মানুষের আবেগের মধ্যে সে বেঁচে থাকবে।
আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘১১ জুলাই তারিখটা ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ফিরে আসে। কিন্তু তারিখটা মীরসরাইবাসীর কাছে ফিরে আসে চাপা কান্না আর গভীর হাহাকার নিয়ে।’
প্রতিশ্রুতি পূরণই হোক শোকের প্রতি সম্মান
দুর্ঘটনার পর স্বজনদের সমবেদনা জানাতে মীরসরাইয়ে ছুটে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা। আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বেশ কিছু প্রতিশ্রুতির কথাও বলা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাইকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিআরটিসি বাস চালুরসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিশ্রুতির একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর পরও প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে।
আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়
প্রতিবছর ২২ অক্টোবর পালিত হয় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সড়কে মানুষের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্র, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। চালকের সতর্কতা, যানবাহনের উপযুক্ততা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং কার্যকর তদারকি— এসব বিষয়ে অবহেলার মূল্য কখনও কখনও দিতে হয় একটি পুরো পরিবারকে।
মীরসরাইয়ের সেই শিশুরা আর ফিরবে না। রায়হান, জুলহাস, ধ্রুব, কাজল, আমিন শরীফ, জুয়েল, সাকিব, লিটন— তাদের অনেকে হয়তো আজ সংসার গড়ত, মা-বাবার পাশে দাঁড়াত, নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতো। কিন্তু তাদের জীবন থেমে আছে ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ে। স্বজনদের জীবনে সেই দিনটি এখনও শেষ হয়নি।
দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আবুতোরাবের আকাশ-বাতাসে যেন রয়ে গেছে হারানো সন্তানদের স্মৃতি। কেউ ছবির ফ্রেম বুকে চেপে ধরে, কেউ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদে, কেউ আবার কথা বলতে গিয়েও থেমে যায়। সময় তাদের বেঁচে থাকার অভ্যাস শিখিয়েছে, কিন্তু ভুলে থাকার সুযোগ দেয়নি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে মীরসরাইয়ের এই শোকগাথা তাই শুধু অতীতের একটি দুর্ঘটনার স্মরণ নয়। এটি ভবিষ্যতের প্রতি এক কঠিন দায়বদ্ধতার কথা বলে। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এবং স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন— এসবই হতে পারে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের স্মৃতির প্রতি যথার্থ সম্মান।
যে সড়ক দিয়ে শিশুরা আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরছিল, সেই সড়কই কেড়ে নিয়েছিল তাদের জীবন। আর কোনো বিদ্যালয়ের আঙিনা যেন লাশের সারিতে ভরে না ওঠে, আর কোনো মা যেন বলতে বাধ্য না হন, ‘আমার ছেলের বয়স তো আর বাড়ল না’— মীরসরাই ট্র্যাজেডির দেড় দশক পর এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।