জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা আদায় ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণার পর এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৭০টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত অভিযানসংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর বাজারে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এই ঘোষণার পর চলতি মাসের শুরু থেকে দেশজুড়ে বাজার তদারকি অভিযান জোরদার করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে ভেজাল খাদ্য ধ্বংস, পণ্য জব্দ, প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও কারাদণ্ডের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানগুলোতে মূলত ভোজ্যতেল, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম, ফল, মসলা ও এলপিজি সিলিন্ডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজার, আড়ত, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ভোজ্যতেলের দোকান এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করা হচ্ছে। পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, সঠিক ওজন ও পরিমাপ, নির্ধারিত দামে বিক্রি এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে একটি গোডাউনে ১৬০ থেকে ১৭০ টন এলাচ মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১১ মাসে মজুত করা ১৫ টন এলাচের মাত্র আধা টন বিক্রি করেছিল। আরেক প্রতিষ্ঠান ৩০ টন এলাচ বিক্রির রশিদ দেখালেও পণ্য সরবরাহ করেনি। মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টার দায়ে হোসেন করপোরেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমদানিকৃত জিরার মূল বস্তায় উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় আরাফাত ট্রেডিংকে আরও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এসব অভিযানে খাদ্যে ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবর পাবনার ফরিদপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানে দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, জেলি ও ভোজ্যতেল মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সাময়িক সিলগালা এবং একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯ অক্টোবর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা ও ইউরিয়া ফরমালডিহাইডের ড্রামে রাখা প্রায় ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল ধ্বংস করা হয়। ৫ অক্টোবর কারওয়ান বাজারে রং মেশানো প্রায় ২০ কেজি মাছও ধ্বংস করা হয়। ১৪ অক্টোবর মেয়াদোত্তীর্ণ রং দিয়ে কেক তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে একটি বেকারি ও একটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়। ৮ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় কফি ও সসের নকল প্যাকেজিং করে বাজারজাতের দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতেও নজরদারি চলছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য আদায়, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার না রাখা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব অভিযানে কারচুপির সরঞ্জাম ও সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনা, মূল্যতালিকা ও মেয়াদ যাচাই এবং ক্রয়ের রসিদ সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে ভোক্তা অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে (১৬১২১) অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।
—জা.অর্থনীতি/আরএস