জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাবের আওতায় আসতে পারেন, যা তাদের মোট বৈশ্বিক কর্মীর এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ, কপাইলট, এআই এক্সপেরিয়েন্সড, অর্থ বিভাগ, মানবসম্পদ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ ও ডিভাইসেস বিভাগের কর্মীরা এই প্রস্তাবের আওতায় থাকতে পারেন। তবে বিপণন, বাণিজ্যিক ব্যবসা ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এ সুযোগের বাইরে থাকবেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে।
মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যেসব কর্মী ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে নতুন কিছু করার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই প্রস্তাব সহায়তা নিয়ে কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের বিকল্পও পাবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ।
বিশ্বের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো মাইক্রোসফটও এআই অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার ও চিপে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে এই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি মূলধনি ব্যয় বাবদ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার খরচের পূর্বাভাস দিয়েছে।
মাইক্রোসফটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সে হিসাবে ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাবের আওতায় এলে তা প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কানাডা, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট বিভাগে কর্মরত ৭০ বা তার নিচের স্তরের যোগ্য কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করা স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি। যোগ্য কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীদের প্রায় ৭ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৯ হাজার কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মাইক্রোসফট। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে এক্সবক্স গেমিং ব্যবসার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি গেম স্টুডিও বিক্রি বা ব্যবসা থেকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি