ফিরোজ শাহ, জামালপুর: ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। ভোরের হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় শিশির আর ঠান্ডা বাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। সকাল ও রাতে বাড়ছে ঠান্ডার অনুভূতি। এরই মধ্যে শীতের পোশাক বের করতে শুরু করেছেন অনেকেই।
জামালপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরে মাঠ-ঘাট ও সড়কের পাশে হালকা কুয়াশার আবরণ পড়ছে। ঘাসের ডগায় জমছে শিশির। সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কাটলেও সকালজুড়ে থাকছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পরও অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা বাতাস।
এদিকে শীতের আগমনে গ্রামাঞ্চলে খেজুরগাছ কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাছিরা। কোথাও কোথাও খেজুরের রস সংগ্রহের আয়োজনও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, শীতের পিঠা-পায়েস তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে অনেক পরিবার।
তবে শীতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিয়ে আসে বাড়তি দুর্ভোগ। দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষের অনেককেই ভোরে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয়। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন আশ্রয়ণ এলাকার ভ্যানচালক মুনসুর আলী জানান, শীত আসলে তাদের কষ্ট দ্বিগুণ হয়ে যায়। ৬ জনের পরিবারের শীতের কাপড় জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয়। এছাড়াও শীতের কারণে আয় কমে যায়। এতে পরিবার নিয়ে পুরো শীতজুড়ে কষ্টে দিন পার করতে হয় তাদের।
ইসলামপুর উপজেলার কিংজেল্লার বাসিন্দা রিকশাচালক নুর ইসলাম শীত আসলে দেনুয়া মোড়ে শীতের পিঠা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, শীতে রিকশার ভাড়া কমে যায়। যার কারণে পিঠার বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় তাকে।
শীতে বয়স্ক ও শিশুদের একটু বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ জেলা সিভিল সার্জনের।
জামালপুর সিভিল সার্জন ডা ফজলুল হক জানান, শীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় হাসপাতালগুলোতে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শীতে গরম কাপড় দিতে হবে। অযথা বাইরে ঘুরাঘুরি পরিহার করতে হবে। ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দিলে সাথে সাথে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুরোধ করেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। প্রকৃতির রূপ বদলের মধ্য দিয়ে জানান দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।
—জা.অর্থনীতি/এনজে
