জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: কেবল অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে কাউকে টাকা ধার দিয়েছেন? কিংবা কাউকে একটি খালি চেকে সই করে দিয়ে ভাবছেন কোনো সমস্যা হবে না? একটিমাত্র ছোট অসচেতনতা মুহূর্তেই আপনাকে ফাঁদে ফেলতে পারে বছরের পর বছর কোর্ট-কাচারির মামলায়। আর্থিক লেনদেনে কোন সাধারণ আইনি ভুলগুলো আপনাকে পথে বসাতে পারে?
আমাদের সমাজে পরিচিত মানুষ বা সম্পর্কের খাতিরে কোনো ধরনের লিখিত দলিল ছাড়াই লাখ লাখ টাকার মৌখিক লেনদেন হয়। কিন্তু সমস্যা বাধে যখন বিপদের সময় অপরপক্ষ টাকা অস্বীকার করে।
আদালতে মৌখিক কথার কোনো ভিত্তি নেই— প্রয়োজন দালিলিক প্রমাণ। তাই চক্ষুলজ্জার খাতিরে কোনো প্রমাণ ছাড়া টাকা দেওয়া মানেই বড় আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়া। বিশেষ করে চাকরি দেওয়ার লোভ কিংবা বড় লাভের প্রলোভন দেখানো প্রতারক চক্রের মিষ্টি কথায় লিখিত প্রমাণ ছাড়া এক পয়সাও দেওয়া যাবে না।
ব্যাংকিং লেনদেনে সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী ভুল হলো কাউকে 'ফাঁকা' বা ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়া।
আপনি হয়তো নিরাপত্তার জন্য সই করে একটি চেক দিয়েছেন, কিন্তু অসাধু ব্যক্তি সেখানে ইচ্ছামতো বড় অঙ্কের টাকা বসিয়ে ব্যাংকে জমা দিয়ে ডিজঅনার করিয়ে সরাসরি মামলা ঠুকে দিতে পারে। তাই চেকের পাতায় প্রাপকের নাম, সুনির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক কথায় ও সংখ্যায় এবং তারিখ না লিখে কখনো কোনো চেক হস্তান্তর করবেন না।
একইভাবে, যেকোনো চুক্তি করার সময় কম্পিউটারের দোকানের 'কপি-পেস্ট' করা দুর্বল ফরম্যাট বর্জন করুন। সঠিক মূল্যমানের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা ছাড়া চুক্তির কোনো ভিত্তি থাকে না।
জমি কেনার ক্ষেত্রে বায়না দলিল রেজিস্ট্রি না করা আরেকটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।
আইন অনুযায়ী, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে শুধু বায়না করলেই জমির মালিকানা বা স্বত্ব সুরক্ষিত হয় না; বায়নাপত্রটি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।
একটি রেজিস্ট্রিকৃত বায়না দলিল বলবৎ থাকলে বিক্রেতা কখনোই সেই জমি তৃতীয় কারও কাছে বিক্রি করতে পারে না এবং ক্রেতার জমার টাকাও নিরাপদ থাকে। রেজিস্ট্রি না করালে প্রতারিত হলে জমি ও টাকা দুটোই চিরতরে হারাতে হতে পারে।
আমাদের নিত্যদিনের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেও একটু অসাবধানতায় ভুল নম্বরে চলে যেতে পারে হাজার হাজার টাকা। কেবল ১১ সংখ্যার ডিজিটের ওপর নির্ভর না করে টাকা পাঠানোর আগে নম্বরটি অন্তত দুবার মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। একইসাথে গ্রাহক নিরাপত্তায় প্রতিটি লেনদেনের আগে প্রাপকের এনআইডি অনুযায়ী ভেরিফায়েড নাম প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
আর্থিক লেনদেনে অন্ধবিশ্বাস নয়, সচেতনতাই একমাত্র সুরক্ষা। সামান্য অলসতা আর আইনি অজ্ঞতা যেন আপনার সারাজীবনের উপার্জনকে হুমকির মুখে না ফেলে। লেনদেন করুন দালিলিক প্রমাণ রেখে এবং আইন মেনে।
ব্ল্যাঙ্ক চেকে সই করার ভয়ানক পরিণতি!
নিরাপত্তার খাতিরে কাউকে সই করা খালি চেক দিচ্ছেন? এই ভুল ভুলেও করবেন না! চেকের পাতায় টাকার পরিমাণ ও তারিখ খালি থাকলে যে কেউ সেখানে কোটি টাকা বসিয়ে ব্যাংক থেকে ডিজঅনার করিয়ে আপনার বিরুদ্ধে সরাসরি চেক জালিয়াতির মামলা করে দিতে পারে। চেকে নাম, টাকার পরিমাণ এবং তারিখ ছাড়া কখনোই কাউকে চেক হস্তান্তর করবেন না!
জমি কেনার বায়নাপত্র কি রেজিস্ট্রি করেছেন?
জমি কেনার জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়না করে নিশ্চিন্তে আছেন? প্রচলিত আইন অনুযায়ী জমির বায়নাপত্র সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি না করালে তার কোনো আইনি সুরক্ষা নেই! বিক্রেতা চাইলে সেই জমি অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দিতে পারে এবং আপনার দেওয়া অ্যাডভান্স টাকাও আটকে যেতে পারে। তাই জমি কেনার আগে বায়না দলিল রেজিস্ট্রি করা নিশ্চিত করুন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
