জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা । হাসপাতালে হাতে-কলমে চিকিৎসা শেখার কথা , কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজস্ব হাসপাতাল । বছরের পর বছর পার হচ্ছে, একের পর এক ব্যাচ এমবিবিএস পাসও করছেন, অথচ দেশে হাসপাতাল নেই ১২ সরকারি মেডিকেল কলেজের।
দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এখনও নির্মিত হয়নি নিজস্ব হাসপাতাল ভবন। এসব কলেজের বয়স ৮ থেকে ১৮ বছর। অথচ প্রতিটির জন্য ২১২ থেকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদন রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল শিক্ষা নিতে হচ্ছে জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে। এরই মধ্যে কয়েকটি কলেজ থেকে একাধিক ব্যাচ এমবিবিএস পাসও করেছেন।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা, নোয়াখালী ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজেরও নিজস্ব হাসপাতাল নেই। তালিকায় রয়েছে যশোর, জামালপুর, রাঙামাটি ও হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ। এর মধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজের জন্য ২৭৮ এবং নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের জন্য ২১২ শয্যার হাসপাতাল অনুমোদিত রয়েছে। বাকিগুলোর জন্য অনুমোদন রয়েছে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের।
চিকিৎসাশিক্ষায় তৃতীয় বর্ষ থেকেই রোগীর সরাসরি সংস্পর্শে এসে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপদ্ধতি শেখার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্স শেষে এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপও করতে হয়। কিন্তু নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় জটিল রোগ ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, নিজস্ব হাসপাতাল ভবন না থাকলেও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাগুরা জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মেডিকেল কলেজের জন্য নিজস্ব হাসপাতাল থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য হাসপাতাল ও ক্যাম্পাস নির্মাণে ডিপিপি প্রস্তুত করা হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
এছাড়া , চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ল্যাবরেটরি, হোস্টেল ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিকল্প অবকাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, কলেজের জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী চার মাসের মধ্যে নতুন অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন তারা।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ জাতীয় অরথনিতিকে বলেন, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষায় ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বাসে করে হাসপাতালে যেতে হয়। জটিল রোগীর সংখ্যা কম থাকায় সব ধরনের চিকিৎসা শেখার সুযোগও সীমিত হয়। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ১২টি মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত ডিপিপি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। দ্রুত তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে প্রকল্প অনুমোদন ও হাসপাতাল নির্মাণ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।
বিকল্প ব্যবস্থায় আপাতত শিক্ষা কার্যক্রম চললেও তা নিজস্ব হাসপাতালের অভাব পূরণ করতে পারছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণও। তাই দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
