মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরে নিজ পিতাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলে মো. সিফাত ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম বুলবুল আহাম্মেদ তদন্তকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে মেহেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক গোলাম কবির এই রায় ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এসআই বলেন, তদন্তকালে নিহতের নিজের ছেলে সিফাত ফকিরের এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান। পরে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩০ জুন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। শুনানিকালে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম শফিকুল আলম।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নিজ বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মনির উদ্দীন রাতের খাবার শেষে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার চিৎকার শুনে স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের বাইরে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি