কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে দামী 'আইফোন' ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং অপর একজনের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম) এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ছবি তোলার অজুহাতে অপ্রতিমকে ডেকে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের সাথে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপরিউপরি আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হলে তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তারসহ তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। সিয়ামের সম্পৃক্ততা নিয়ে এখনো যাচাই-বাছাই চলছে।
এদিকে, গত রাত থেকেই 'আনাস' নামের এক সন্দেহভাজনকে পুলিশ কর্তৃক আটকের তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলেও রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে তার নাম না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুবি শিক্ষার্থীরা। পুলিশ কাউকে আড়াল বা বাঁচানোর চেষ্টা করছে কি না-এমন প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
তবে শিক্ষার্থীরা আনাসের নাম বললেও পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে তার আটকের বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, আনাস নামের কেউ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নেই। মামলাটিতে আরও কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে দ্রুততম সময়ে আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি