স্ত্রীর থেকে কতদিন দূরে থাকা জায়েজ?
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে করেছেন মাত্র এক বছর, কিন্তু জীবিকার তাগিদে স্বামী প্রবাসে—আজকাল আমাদের সমাজের ঘরে ঘরে এটা খুব পরিচিত এক চিত্র। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে লাখ লাখ তরুণ পাড়ি জমাচ্ছেন দূর দেশে। কিন্তু বুকভরা টাকা আর বিলাসী জীবনের পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি—ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ কতদিন দূরে থাকা জায়েজ? নাকি শুধু টাকা পাঠালেই স্বামীর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?

চলুন, ইসলামি শরীয়ত ও বর্তমান যুগের বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।

ইসলামি শরীয়তের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি ছাড়া তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত দূরে থাকা জায়েজ। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর আমল থেকেই এই সময়সীমা নির্ধারিত। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায়, কোনো জোরজবরদস্তি ছাড়া আরও বেশি সময় স্বামীকে ছাড় দিতে রাজি থাকেন, তবে ৪ মাসের বেশি প্রবাসে থাকা গুনাহের কারণ হবে না।

আজকের সোশ্যাল মিডিয়া আর প্রযুক্তির যুগে প্রবাস জীবন মোটেও সহজ নয়। দীর্ঘ দূরত্ব স্বামী বা স্ত্রী—উভয়ের ক্ষেত্রেই চারিত্রিক স্খলন বা পরকীয়ার মতো মারাত্মক ফিতনা তৈরি করতে পারে। যদি এমন কোনো গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কাও থাকে, তবে স্ত্রীর অনুমতি থাকলেও দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকা হারাম হয়ে যাবে।

বাস্তবতার নিরিখে যদি দ্রুত বাড়ি ফেরা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এই ৫টি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রবাসে থাকা জায়েজ হতে পারে:

১. চাহিদার নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘ সময় আলাদা থাকলেও স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক চাহিদার তীব্র বা নিয়ন্ত্রণহীন আকুলতা না থাকা।

২. পবিত্রতা রক্ষা: স্বামী-স্ত্রী কারো পক্ষেই ফিতনা বা পাপে জড়ানোর কোনো প্রবল আশঙ্কা না থাকা।

৩. স্ত্রীর সম্মতি: দীর্ঘদিন দূরে থাকার পেছনে স্ত্রীর স্পষ্ট, আন্তরিক ও সন্তুষ্টচিত্ত অনুমতি থাকা।

৪. ভরণপোষণ: স্ত্রীর ভরণপোষণ এবং সন্তানদের পড়াশোনা ও লালন-পালনের শতভাগ ব্যবস্থা রাখা।

৫. ভার্চুয়াল সঙ্গ: দূরদেশে থাকলেও নিয়মিত ফোন বা ইন্টারনেটে স্ত্রীকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া ও মানসিক একাকীত্ব দূর করা।

পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থায় জীবন অতিবাহিত করো। (সুরা নিসা: ১৯)

আজকের যুগে ভিডিও কলে কথা বলা হাতের মুঠোয়। তাই প্রবাসে থেকে স্ত্রীর খোঁজ না নেওয়া বা উদাসীনতা দেখানো গুরুতর অপরাধ। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অবহেলা করলে এবং তার ফলে স্ত্রী যদি মানসিক যন্ত্রণা বা কোনো পাপে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার সম্পূর্ণ দায় স্বামীর ওপর বর্তাবে।

তাই সবচেয়ে উত্তম হলো, সম্ভব হলে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে সাথে রাখা। আর তা না হলে, ক্যারিয়ারের চেয়ে নিজের পরিবার ও ঈমান বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।

জা. অর্থনীতি/ উমার