ঝুঁকিতে অর্ধশতাধিক ওয়েবসাইট, জরুরি সতর্কবার্তা

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। 

সংস্থাটির নজরদারিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে পিএইচপির পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। 

আগেই সতর্ক করার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা হালনাগাদ করেনি। এদিকে, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাকারের কবলে পড়েছে।

রোববার জারি করা সতর্কবার্তায় বিজিডি ই-গভ সার্ট জানায়, তাদের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স (সিটিআই) ইউনিটের নিয়মিত নজরদারিতে সরকারি, জনখাত ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে। এসব অ্যাপ্লিকেশনে পিএইচপির পুরোনো, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে। 

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০টির বেশি ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে পিএইচপির ত্রুটিপূর্ণ পুরোনো সংস্করণ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। নজরদারি অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগেই অবহিত করার পরও সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা হালনাগাদ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো জবাবও দেয়নি। ফলে এসব ওয়েবসেবা সাইবার হামলা ও অননুমোদিত প্রবেশের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার বলেন, আগের সতর্কবার্তা জারির পরও নজরদারিতে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান পিএইচপির সংস্করণ হালনাগাদ করেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে আরও পুরোনো সংস্করণ রয়ে গেছে। 

এতে ওয়েবসাইটগুলো নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সতর্ক করা হয়েছে এবং পিএইচপির সংস্করণ হালনাগাদ করে সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ ছিল ব্যাংক ও ভূমিসেবার ওয়েবসাইট

বিশ্বজুড়ে পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসার পর গত বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। 

সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি এড়ানো এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও ব্যাংকিং সেবায় কোনো প্রভাব পড়েনি। বন্ধ রাখা হয়েছিল ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও।

নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর রোববার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট আবার চালু হয়েছে। দুপুরের দিকে জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল হয়। প্রায় একই সময়ে স্বাভাবিক হয় ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইট recruitment.bb.org.bd রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটেও বন্ধ পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণ চলছে বলে বার্তা দেখানো হচ্ছিল।

নিরাপত্তা হালনাগাদে নির্দেশনা

বিজিডি ই-গভ সার্টের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত থাকতে পারে। এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটলে তথ্যের গোপনীয়তা ও অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেট থেকে প্রবেশযোগ্য সব ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, সার্ভার, কনটেইনার ও হোস্টিং পরিবেশে পিএইচপির কোন সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যাচাই করতে বলেছে সংস্থাটি। 

ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণগুলো নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে, এমন সংস্করণে উন্নীত করতে হবে। যেসব সংস্করণে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর নিরাপত্তা হালনাগাদ দেয় না, সেগুলোর পরিবর্তে সমর্থিত সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে ওয়েবসেবায় প্রবেশের সুযোগ সীমিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার, নির্দিষ্ট আইপি ঠিকানা থেকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিজিডি ই-গভ সার্ট সতর্ক করে বলেছে, সাময়িকভাবে ওয়েবসেবায় প্রবেশ সীমিত করলে ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদের বিকল্প নয়। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

—জা.অর্থনীতি/আরএস