নোবিপ্রবির শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানিসহ নানা সংকট
ছবি: সংগৃহীত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে মারাত্মক অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি বাইরে থেকে কেনা পানিতেও দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশুদ্ধ পানির অভাবের পাশাপাশি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তা, ইন্টারনেট সেবা ও গ্যাস সরবরাহেও মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ভবনটির চারপাশ উন্মুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পুরো ভবনের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন আনসার সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রতিটি ফ্লোরের দুই প্রান্তে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসের অন্যান্য ভবনে নিজস্ব ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার্সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব সংযোগ নেই। ফলে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

গ্যাস সরবরাহ নিয়েও জমেছে অসন্তোষ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রান্নার সময় বেশির ভাগ সময়ই মূল লাইনে গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত গ্যাসলাইনের বিল পরিশোদের পাশাপাশি সিলিন্ডারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে গিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন তারা।

জানা গেছে, কোয়ার্টার্সের ৭২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে আনুমানিক ৩০টি ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে। ক্যাম্পাসের ভৌগোলিক অবস্থান কিছুটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আশপাশে বাজার, মানসম্মত স্কুল ও হাসপাতালসহ নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ফ্ল্যাটের ভাড়া ও সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা বিকল্প আবাসনে চলে যাওয়ায় বড় একটি অংশ ফাঁকা থাকছে।

কোয়ার্টার্স শিক্ষক-কর্মকর্তা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও সহকারী অধ্যাপক জিএম রাকিবুল ইসলাম বলেন, “প্রায় এক বছর আগে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনো নতুন কমিটি হয়নি। ইতিপূর্বে আমরা সমস্যাগুলো নিয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম, যার প্রেক্ষিতে জেনারেটর চালু করা হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ পানিসহ বর্তমান সমস্যাগুলোর দ্রুত টেকসই সমাধান অত্যন্ত জরুরি।”

এদিকে কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানি সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইন জানান, “পানির টেকসই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট অনুমোদিত হলেই দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু করা হবে।”

—জা. অর্থনীতি/এলএটি