নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে সাজেলের চর বাজার ও সেতু
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুরে দশানী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ভাঙনের ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী সাজেলের চর বাজার এবং তিন উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সেতু।  

রবিবার (১৬ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের ডাকপাড়া ও টেংরাকুড়া এবং চরপুটিমারী ইউনিয়নের সাজেলের চরসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনের প্রভাবে কৃষকদের আবাদি জমি একের পর এক নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে মারাত্মক ঝুঁকি ও হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি ও নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান।  

ধারাবাহিক নদীভাঙনে সাজেলের চর বাজার ও সংলগ্ন সংযোগ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে বসেছে। তদুপরি, বাজার সংলগ্ন তিন উপজেলার চলাচলের একমাত্র সংযোগ সেতুটির এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে যানজট এবং ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে পেড়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।  

স্থানীয় ব্যবসায়ী কালাম মিয়া জানান, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই সড়কে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে এবং ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম সতর্ক করে জানান, এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নদীর পেটে চলে যাবে, যা ব্যাহত করবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।  

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী নদী সংরক্ষণের দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।  

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মোঃ জুবায়ের জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি